দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে কথা দিয়েও হারের পরের দিন শোডাউন করেননি মাহিয়া মাহি। তবে রোববার (৭ জানুয়ারি) দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের দিন সকাল ১০টার দিকে তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনেবের হন মাহিয়া মাহি । সে সময় তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, ‘ফলাফল যাই হোক, আমি হারি বা জিতি ইনশাআল্লাহ কাল (সোমবার) পুরো এলাকায় একটা শোডাউন দেব। হেরে গেলেও সবাইকে জানান দেব, আমি তাদের (জনগণ) সাথে আছি।’
মাহিয়া মাহি আরও জানান,
আমি পাস করি, আর ফেইল করি; সেটি আমার কাছে বড় ব্যাপার না। তবে আমি মানুষের অনেক কাছাকাছি গিয়েছি, অনেক বয়স্ক মানুষের দোয়া পেয়েছি, প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়েছি এবং অনেক মানুষের সাথে কথা বলেছি। মানুষের কষ্টের কথাগুলো শুনেছি, এর থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। তাদের জন্য আমি অনেক কিছু করতে চাই। আমি নির্বাচিত যদি নাও হতে পারি, আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো ।
শেষ পর্যন্ত কথা রাখলেন না মাহিয়া মাহি। তিনি সোমবার (৮ জানুয়ারি) নিজের নির্বাচনী এলাকায় কোনো ধরনের শোডাউন দেননি ।
প্রসঙ্গত, রাজশাহী-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেদ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন নায়িকা মাহি। নির্বাচনের আগে এলাকাবাসীকে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার ট্রাক মার্কায় ভোট চান তিনি । প্রচারণার সময় অনেকটা ‘সিনেম্যাটিক’ স্টাইলে বক্তব্যও দেন। তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থীকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘চৌধুরী সাহেবের হয়তো অনেক টাকা আছে, কিন্তু তার মন নেই।’
তবে নির্বাচনের মাঠের ফলাফলে সেই চৌধুরী সাহেবের কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। রাজশাহী-১ আসনের দুই উপজেলায় শারমিন আক্তার নিপা (মাহিয়া মাহি) ট্রাক মার্কায় ভোট পেয়েছেন ৯ হাজার ৯টি । আর টানা তিনবারের এমপি হওয়া আওয়ামী লীগের ওমর ফারুক চৌধুরী নৌকা মার্কায় ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৫৯২ টি । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম রব্বানী কাঁচি মার্কায় ভোট পেয়েছেন ৯২ হাজর ৪১৯ টি ।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ৭ই জানুয়ারি রবিবার । এ নির্বাচনে সারা দেশের ২৯৯টি আসনে গড়ে ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। ৮ জানুয়ারি সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
গতকাল ৭ জানুয়ারি রবিবার অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ২৯৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ২২৪টি আসন। অন্যদিকে স্বতন্ত্র পেয়েছে ৬২টি আসন, জাতীয় পার্টি থেকে ১১টি আসন এবং অন্য দল থেকে একজন প্রার্থী জয় পেয়েছেন। অন্যদিকে একটি আসনের ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া নওগাঁ-২ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সে আসনে নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোট হয় ২৯৯টি আসনে। তবে সংঘর্ষের কারণে রোববার ৭ই জানুয়ারি বিকেলে বন্ধ করা হয় ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুর আসনের ভোট গ্রহণ । তাই আসনটির ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে।
রবিবার ৭ই জানুয়ারী সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে বিরতিহীনভাবে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলে। এ সময়ে দেশের কিছু জায়গায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ হলেও বেশির ভাগ জায়গায় মোটামুটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ।
৩০ থেকে ৩৫ টি এলাকায় ভোট কেন্দ্রের বাইরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। অনেক জায়গার ভোটকেন্দ্রের আশে পাশে ককটেল বিস্ফোরণেরও ঘটনা ঘটেছে তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় দ্রুত পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রন করা হয়। সংর্ষের কারণে সাতটি কেন্দ্রে ভোট বাতিল করা হয়। জাল ভোটের চেষ্টা করলে ১৫ ব্যক্তিকে দণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া কয়েকজন প্রার্থী কারচুপি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করেছেন।
এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন এবং নারী ভোটার সংখ্যা ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন। এছাড়া হিজড়া ভোটার সংখ্যা ছিল ৮৫২ জন। রবিবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটে সারা দেশের ২৯৯ আসনে মোট প্রার্থী ১ হাজার ৯৭০ জন প্রাথী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
এদের মধ্যে ১ হাজার ৫৩৪ জন দ্বাদশ নির্বাচনে অংশ নেওয়া নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধন করা ২৮টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী। বাকি ৪৩৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। নওগাঁ-২ আসনে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ওই আসনে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী ভোট গ্রহণ বাতিল করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কোন আসনের প্রার্থী নির্বাচনের পূর্বে মারা গেলে ওই সংশ্লিষ্ট আসনের ভোট গ্রহণ বাতিল করা হয়। তবে এ আসনের ভোটগ্রহণ অন্য সময় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আরো পড়ুন:- বেনাপোল এক্সপ্রেসের চার বগিতে আগুন

Md Badsha Alam is a content strategist and digital writer specializing in Personal Finance . With years of experience researching emerging industry trends and financial technologies, he crafts data-driven guides and in-depth analyses designed to help readers make informed decisions. When not writing, Md Badsha Alam tests digital tools and tracks industry developments.
2 thoughts on “হারের পরের দিন শোডাউন করেননি মাহিয়া মাহি”