আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে Cervical Cancer বা সার্ভিকাল ক্যান্সার বা জরায়ু ক্যান্সার কী ? সাধারণত নারীদের ক্ষেত্রে এই ধরনের রোগ হয়ে থাকে। প্রাথমিক চিকিৎসায় এই রোগ নিরাময় করা সম্ভব। কিন্তু সচেতনতার অভাবে এই রোগে অনেকে মারা যান। তাই আজকে আমরা এই রোগের কারণ,লক্ষণ, প্রতিরোধ, ও বাংলাদেশের এর চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে চলেছি।
জরায়ু ক্যান্সার কী ?
জরায়ু ক্যান্সার হল এমন এক ধরনের ক্যান্সার যেটা মেয়েদের জরায়ুতে হয়ে থাকে। যাকে ইংরেজিতে cervical cancer বা সার্ভিকাল ক্যান্সার বলে। জরায়ুর ক্যান্সার ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। এই ক্যান্সার হওয়ার আগে জরায়ুর কোষগুলি অসাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে। সময়ের সাথে সাথে এই কোষগুলিকে ধ্বংস বা অপসারণ না করা হলে, কোষগুলি ক্যান্সার কোষের রূপান্তরিত হয় এবং বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। আস্তে আস্তে জরায়ুর পুরো এলাকায় এটি গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত ২০২৪
এই ক্যান্সারের প্রধান কারণ হচ্ছে হিউম্যান পাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি)। এই ভাইরাসের আক্রমণে মেয়েদের জরায়ুতে ক্যান্সার হয়ে থাকে। এই ভাইরাস আক্রমণের পর দুই থেকে দশ বছরের মধ্যে এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে। কিন্তু ততক্ষনে অনেক দেরি হয়ে যায়। কিন্তু একটু সচেতন হলেই এই রোগটি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
মেয়েদের জরায়ু ক্যান্সার কেন হয় ?
সাধারণত জরায়ুতে ক্যান্সার হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের (এইচপিভি) আক্রমণ। হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস আছে এমন কোন ব্যক্তির সাথে যৌন সঙ্গম করলে এই রোগটি হতে পারে। যৌন সঙ্গমের সময় পুরুষদের দেহ থেকে নারীদের দেহে এই ভাইরাসটি প্রবেশ করে। ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশের পর থেকে ক্যান্সার হয়না। বরং প্রবেশের ২ থেকে ১০ বছরের মধ্যে ক্যান্সারের বড় লক্ষণ দেখা দেয়। সাধারণত ভাইরাস প্রবেশের কিছুদিন পর আস্তে আস্তে এর কিছু ছোট ছোট লক্ষণ প্রকাশ পেলেও তা বুঝা বেশ কঠিন। তাই যদি সচেতন না হওয়া যায় তাহলে এই রোগ থেকে বাঁচা খুবই কঠিন।বিশ্ব ইজতেমার ম্যাপ ২০২৪ ডাউনলোড
জরায়ু ক্যান্সারের কারণ
আমরা অনেকেই জরায়ু ক্যান্সারের কারণ সম্পর্কে সচেতন নই। তাই আমাদের জানা প্রয়োজন যে, জরায়ু ক্যান্সারের কারন কি?
জরায়ু ক্যান্সার একটি সুপ্ত রোগ। সচেতন না হলে এই রোগের আক্রমণ থেকে বাঁচা খুবই কঠিন। তাই কি কি কারণে এই ক্যান্সার হয়ে থাকে তা নিচে দেওয়া হল:-
- অল্প বয়সে যৌন মিলনের ফলে এই রোগটি হতে পারে।
- স্বামী অথবা কোন যৌন সঙ্গীর শরীরে ভাইরাসটি থাকলে এই রোগটি হতে পারে।
- একের অধিক যৌনসঙ্গী থাকলে এই রোগটি হতে পারে।
- বয়সন্ধিকালে পিরিয়ড শুরুর এক বছরের মধ্যে যৌন মিলন করলে এই ভাইরাসটির আক্রমণ করতে পারে।
- দীর্ঘদিন ধরে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল খেলে এই রোগটি হতে পারে।
- ওরাল. এনাল এবং ভ্যাজাইনাল যৌন ক্রিয়াকলাপের কারণে এই রোগের সম্ভাবনা বেশি থাকে।
- শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে এই রোগটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
- এইডস, সিফিলিস, গনেরিয়া রোগ থাকলে যৌন সঙ্গমের মাধ্যমে এই ক্যান্সার হয়ে থাকে।
জরায়ু ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ
সাধারণত এই ভাইরাসটির আক্রমণের দুই থেকে দশ বছরের মধ্যে জরায়ু ক্যান্সারের লক্ষণগুলো আস্তে আস্তে প্রকাশ পেতে শুরু করে। একটু সচেতন হলেই এই লক্ষণগুলো প্রকাশের আগে সঠিক চিকিৎসা করলে রোগটি ভালো হয়ে যায়। সাধারণত লক্ষণগুলো প্ৰকাশ পেলে অনেক দেরি হয়ে যায়। জরায়ু ক্যান্সারের প্রধান লক্ষণ গুলো নিচে দেওয়া হল:-
- যৌন মিলনের সময় জরায়ুতে ব্যথা হওয়া।
- যৌন মিলনের পর রক্তপাত হওয়া।
- পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে অতিরিক্ত রক্তপাত হওয়া।
- যৌন মিলনের সময় অস্বস্তি।
- প্রসাব করার সময় ব্যথা হওয়া।
- রক্তের সাথে যোনি স্রাব হওয়া।
- তীব্র গন্ধযুক্ত যোনি স্রাব বের হওয়া।
- চাল ধোয়া পানির মত যোনি স্রাব বের হওয়া।
- তলপেট ব্যথা হওয়া।
- কাশির সাথে রক্ত বের হওয়া।
- কোমর ও হাড়ে ব্যথা হওয়া।
- অনিয়মিত মাসিক।

জরায়ু ক্যান্সারের মূল অসুবিধা হলো এটা একেবারে শেষ পর্যায়ে চলে গেলে জরায়ু পথে ব্যথা হয়ে থাকে। এই ভাইরাসটি প্রাথমিক পর্যায়ের লক্ষণগুলো অনেকেই মাসিকের মেয়েলি সমস্যা মনে করলেও রোগটা অনেক দূর ছড়িয়ে যায়। অমর একুশে বইমেলা ২০২৪ লোকেশন,শুরু এবং শেষ
জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধ
যেহেতু জরায়ু ক্যান্সার একটি সুপ্ত রোগ , তাই আমাদের এ সম্পর্কে সচেতন হওয়া খুবই প্রয়োজন।
- হিউম্যান পেপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) আছে কোন ব্যক্তির সঙ্গে যৌন মিলন না করা।
- একের অধিক যৌনসঙ্গী না রাখা।
- যৌনাঙ্গ সব সময় পরিষ্কার রাখা।
- শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে নিরাপদ ও সুস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করা।
- অল্প বয়সে যৌন মিলন না করা।
- দীর্ঘমেয়াদী জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল না খাওয়া।
- এইডস, সিফিলিস, গনেরিয়া রোগ আছে এমন কোন ব্যক্তির সঙ্গে যৌন মিলন না করা।
- অধিক সন্তান ধারণ না করা।
- ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করা।
- যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া।
- জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধক টিকা গ্রহণ করা।
- ৩ বছর পর পর ভায়া টেস্ট করা।
- কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে না দেওয়া।
- নিয়মিত ব্যায়াম করা।
জরায়ু ক্যান্সার হলে করনীয়
জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে সাথে সাথে রোগীকে জরায়ু ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে। জরায়ু ক্যান্সারের চিকিৎসা নির্ভর করে রোগীর ক্যান্সারের ব্যাপ্তি ও পর্যায় এবং রোগীর মেডিকেল ফিটনেসের উপর। সাধারণত হরমোন থেরাপি ক্যান্সারের কারণে আক্রান্ত রোগীর হরমোন ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। চিকিৎসাটির ট্যাবলেট আকারে দেওয়া হয় বা সরাসরি আক্রান্ত রোগীর মধ্যে ইনজেকশন দেওয়া হয়। ঢাকা বাণিজ্য মেলা ২০২৪ লোকেশন,শুরু এবং শেষ
জরায়ু ক্যান্সার হলে কতদিন বাঁচে ?
জরায়ু ক্যান্সার হলে কত দিন বাঁচে? এটা সঠিকভাবে বলা যায় না, কারণ এটা নির্ভর করে ক্যান্সারের পর্যায় ও ব্যাপ্তির উপর। ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার সাথে সাথে চিকিৎসা করালে রোগী ভালো হয়ে যায়। কিন্তু দেরি হয়ে গেলে অর্থাৎ ক্যান্সার যদি শেষ পর্যায়ে চলে যায় তাহলে চিকিৎসকের আর কিছুই করার থাকে না। তাই এই ব্যাপারে আমাদের সচেতন হওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে সচেতন হলে আপনারা এই রোগ থেকে সহজেই বাঁচতে পারবেন। ক্যান্সার প্রথমেই ধরা গেলে এর ব্যাপক চিকিৎসা রয়েছে। অস্ত্র পাচার ও কোমোথেরাপির মাধ্যমে এই রোগের চিকিৎসা করা হয়।
জরায়ু ক্যান্সার কি ভালো হয় ?
জরায়ু ক্যান্সার কি ভালো হয় ? এটা সঠিকভাবে বলা যায় না, কারণ এটা নির্ভর করে ক্যান্সারের পর্যায় ও ব্যাপ্তির উপর। এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার সাথে সাথে চিকিৎসা করালে রোগী ভালো হয়ে যায়।এই ক্যান্সার প্রথমে ধরা পড়লে সহজেই নিরাময় করা সম্ভব। ক্যান্সার শুরু হবার পূর্বে জরায়ু পরিবর্তন হতে শুরু করে যা সহজেই পরীক্ষার মাধ্যমে ধরা যায়। প্রথমে ধরা পড়লে চিকিৎসার মাধ্যমে পুরোপুরি ক্যান্সার মুক্ত হওয়া যায়।
কিন্তু দেরি হয়ে গেলে অর্থাৎ ক্যান্সার যদি শেষ পর্যায়ে চলে যায় তাহলে চিকিৎসকের আর কিছুই করার থাকে না। তাই এই ব্যাপারে আমাদের সচেতন হওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে সচেতন হলে আপনারা এই রোগ থেকে সহজেই বাঁচতে পারবেন। ক্যান্সার প্রথমেই ধরা গেলে এর ব্যাপক চিকিৎসা রয়েছে। অশ্রপ্রচার ও কোমোথেরাপির মাধ্যমে এই রোগের চিকিৎসা করা হয়।
জরায়ু ক্যান্সার কি ছোঁয়াচে ?
আপনাদের মধ্যে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে ক্যান্সার কি ছোঁয়াচে রোগ? না, ক্যান্সার ছোঁয়াচে রোগ নয়। ক্যান্সার যার শরীরে হয় তার শরীরেই সীমাবদ্ধ থাকে। ক্যান্সার রোগীর সাথে এক প্লেটে খেলে,একসাথে থাকলে, জড়িয়ে ধরলে,যৌন মিলন করলে ক্যান্সার ছড়ায় না। তবে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর শরীরে যদি এইডস ,হেপাটাইটিস জাতীয় রোগ থাকে তাহলে তাদের সাথে যৌন মিলন, রক্তের মাধ্যমে ঐ রোগ গুলো ছড়াতে পারে কিন্তু ক্যান্সার ছড়াবে না।
জরায়ু ক্যান্সার টিকা
জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য বর্তমানে এর টিকা আবিষ্কার হয়েছে। এই টিকার নাম হিউম্যান পেপিলোমা ভাইরাস বা এইচপিভি টিকা। এটি সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালের শুরুতে অথবা যৌন জীবন শুরু করার আগেই এই টিকা নিতে হবে। জরায়ু ক্যান্সারের মৃত্যু কমিয়ে আনতে এই টিকা অনেক কার্যকর। যদি ছোটবেলায় এইচপিভি টিকা দেওয়ার সুযোগ না মেলে, তাহলে পরিণত বয়সে এসেও টিকা দেওয়া যায়।
তবে ২৭ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে এই টিকাটি নিতে হলে, চিকিৎসকের কাছে সাথে পরামর্শ করে নিতে হবে। কারণ এই বয়সে টিকা দেওয়ার সময় ভাইরাসটি আগেই শরীরে প্রবেশ করেছে কিনা, সে ব্যাপারে চিকিৎসক ভালো বলতে পারবেন। এজন্য এ সময় টিকাটি নেওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে নিতে হবে।
জরায়ু ক্যান্সারের টিকা কখন দিতে হয়
সাধারণত বয়সন্ধিকালের শুরুতে অথবা যৌন যৌবনের শুরুর আগে এই টিকাটি নিতে হয়। এই টিকাটি তিনটি ডোজের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। প্রথম ডোজটি দেওয়ার এক মাস পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয় এবং এর তিন মাস পর তৃতীয় ডোজ। যদি ছোটবেলায় এইচপিভি টিকা দেওয়ার সুযোগ না মেলে, তাহলে পরিণত বয়সে এসেও টিকা দেওয়া যায়। তবে ২৭ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে এই টিকাটি নিতে হলে, চিকিৎসকের কাছে সাথে পরামর্শ করে নিতে হবে।
জরায়ু ক্যান্সারের ভ্যাকসিনের নাম

জরায়ু ক্যান্সারের ভ্যাকসিনের নাম হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা এইচপিভি ভ্যাকসিন। এই ভ্যাকসিন টি তিনটি ডোজের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। প্রথমটি প্রথম ডোজ দেওয়ার এক মাস পর দ্বিতীয় ডোজ দিতে হয়। এরপর তিন মাস পর তৃতীয় ডোজ দিতে হয়। সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালের শুরুতে অথবা যৌন জীবন শুরু করার আগেই এই ভ্যাকসিন নিতে হবে।
জরায়ু মুখের ক্যান্সারের টিকার দাম বাংলাদেশ
বর্তমানে এই ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য বিভিন্ন ধরনের টিকা বাজারে এসেছে। এসব টিকার দাম হাতের নাগালের ভিতরে আছে। এক একটি টিকার মূল্য ২০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। আপনারা যারা এই টিকাটি এখনো নেননি, তারা দ্রুত নিয়ে নেন।
জরায়ু ক্যান্সার পরীক্ষা
জরায়ু ক্যান্সারের কারণে প্রতিবছর লাখ লাখ নারী মারা যায়। এর প্রধান কারণ হচ্ছে এই ক্যান্সারের লক্ষণ বুঝতে না পারা। তাই তাই নারীদের সচেতন হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্যান্সার প্রথমে ধরা পড়লে সহজেই নিরাময় করা সম্ভব। ক্যান্সার শুরু হবার পূর্বে জরায়ু পরিবর্তন হতে শুরু করে যা সহজেই পরীক্ষার মাধ্যমে ধরা যায়। প্রথমে ধরা পড়লে চিকিৎসার মাধ্যমে পুরোপুরি ক্যান্সার মুক্ত হওয়া যায়।
তাই প্রত্যেক নারী যারা জরায়ু ও মাসিকের সমস্যায় ভুগছেন তারা বাংলাদেশের যেকোনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ গিয়ে জরায়ু পরীক্ষা করে নিতে পারেন।

Md Badsha Alam is a content strategist and digital writer specializing in Personal Finance . With years of experience researching emerging industry trends and financial technologies, he crafts data-driven guides and in-depth analyses designed to help readers make informed decisions. When not writing, Md Badsha Alam tests digital tools and tracks industry developments.
2 thoughts on “Cervical Cancer বা সার্ভিকাল ক্যান্সার বা জরায়ু ক্যান্সার কী ?”