Uncategorized

ময়মনসিংহে ট্রেন ও বালুবাহী ট্রাক সংঘর্ষ|নিহত ৪

আর সোমবার ময়মনসিংহ ট্রেন ও বালুবোজাই ট্রাকের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন ঘটনাস্থলে মারা গেলেও বাকি একজন হাসপাতালে মারা যান। নিহতদের পরিবারকে বিশ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রশাসক দিদারে আলম মোঃ মাকসুদ চৌধুরী।

ময়মনসিংহে ট্রেন ও বালুবাহী ট্রাক সংঘর্ষ

আজ দুপুর ১:৩০ টার দিকে শম্ভুগঞ্জ চর এলাকায় বলাকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে বালুবাহী ট্রেনের সংঘর্ষ ট্রাকের সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান। এবং অপর একজন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর মারা যান। তাদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

নিহতদের মধ্যে দুজন ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং অপর দুজন ড্রাম ট্রাকের চালক ও হেলপার বলে ধারণা করা হচ্ছে

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের এক উদ্বোধন কর্মকর্তা জানান, সোমবার সাড়ে তিনটার দিকে উদ্ধারকারী ইঞ্জিন এসে ট্রেনটি উদ্ধার করে। পরে দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেনটি রেল স্টেশনে নিয়ে যায়। উদ্ধার কাজ শেষ হওয়ার দুই ঘন্টা পর ময়মনসিংহের সঙ্গে নেত্রকোনা ও ভৈরব রেলপথ এবং ময়মনসিংহ কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বলাকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ চর এলাকায় এসে লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রাকটিকে ধাক্কা দেয়। এতে বালুবোঝাই ট্রাকটি ধুমড়েমুচড়ে গিয়ে রেললাইনের এক পাশে পড়ে থাকে। অন্যদিকে ট্রেনটি কো ওয়াটার কিলোমিটার সামনে গিয়ে থামে যায়।

নিহতদের মধ্যে একজন ছিলেন ট্রাক ড্রাইভার ও অন্যজন ট্রাকের হেলপার বাকি দুইজন ট্রেনের ইঞ্জিনে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী বলে ধারণা করা হচ্ছে

ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ এসে উপস্থিত হন তারা তিনটি লাশ উদ্ধার করেন বাকি একজনকে হাসপাতালে পাঠালে তিনি ঐখানেই মারা যান। এরপর ট্রেনের উদ্ধার কাজ শেষ হওয়ার পর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়.

তদন্ত কমিটি

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ রেল স্টেশন কর্তৃপক্ষ ৪ সদস্যের একটি কমিটি টিম গঠন করে এবং নিহতদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোঃ মাকসুদ চৌধুরী

তিনি বলেন এটি একটি অরক্ষিত রেলক্রসিং।তদন্ত কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

ময়মনসিংহের এই রেল লাইনে সব থেকে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। অতীতেও অনেক দুর্ঘটনা এইলাইনে ঘটেছিল কিন্তু এর সঠিক কারণ কেউ বের করতে পারেনি। বিভিন্ন সময়ে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি ও রেলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এই রেল লাইনটি পরিদর্শন করেন কিন্তু দূর্ঘটনার আসল কারণ বায়ের করতে পারছেন না।

তারা অনেক চেষ্টা চালিয়েছেন কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা এর কারণ বের করতে পারছেন না। এ সময় তারা রেললাইন এর সিগন্যাল ও বিভিন্ন পয়েন্টের কার্যকারিতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ের প্রধান জানান দুর্ঘটনা দুটি কারণে হতে পারে।একটি হলো টেকনিক্যাল অপরটি হলো অবকাঠামো। তবে এখনো আমরা নিশ্চিত না কেন দুর্ঘটনা হচ্ছে।

এ সম্পর্কে স্থানীয়রা বলছেন তারা একের পর এক কমিটি গঠন করে আসছে আর এখন পর্যন্ত কোন কারণ উদঘাটন করতে পারছে না। এটা খুবই হাস্যকর। তারা নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা করসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *