টেকনোলজি

সিলেটে তেলের খনির সন্ধান

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু সিলেটে সন্ধান পাওয়া তেলের খনি সম্পর্কে। এই আলোচনা থেকে আপনারা আরো জানতে পারবেন খনিতে তেলের মজুদ সম্পর্কে এবং কি পরিমান তেল উত্তোলন করা যাবে এই খনি থেকে তাও জানতে পারবেন

সিলেটের জয়ন্তপুরে একটি কূপ খনন করতে গিয়ে তেলের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে কূপটির প্রথম স্তরে এই তেলের সন্ধান পাওয়া যায় এর সাথে আরও তিনটি স্তর খনন করা হলে ওই স্তরগুলো থেকে নতুন ধরনের গ্যাস পাওয়া যায় .তেলের খনি থেকে পরীক্ষা করে দেখা যায় প্রতি ঘন্টায় প্রতি ঘন্টায় ৩০ ব্যারেল 35 ব্যারেল তেল উত্তোলন করা যাচ্ছে এর এখানে তেলের মজুদ কতটুকু তা জানতে আরো তিন থেকে চার মাসের প্রয়োজন ইতিমধ্যেই তেলের স্যাম্পল ল্যাবে পাঠানো হয়েছে

তেলের মজুদ নিয়ে আশাবাদী প্রতি মন্ত্রী

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও ক্ষণিজ সম্পদ প্রতি মন্ত্রী নসরুল হামিদ গণ গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, গত ৮ ডিসেম্বর সিলেটের জয়ন্তীপুরে একটি খুপ খনন করতে গিয়ে আমরা তেলের সন্ধান পেয়েছি। এর সাথে অন্য আরও তিনটি স্তরে নতুন ধরনের গ্যাস পাওয়া গেছে। প্রথম দিনের খননে প্রথম ঘন্টায় 30 ব্যারেল তেল উত্তোলন করা হয় এবং দুই ঘন্টায় 70 ব্যারেল তেল উত্তোলনের পর এই স্তরের তেল উত্তোলন বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি আরো জানান, এই বিজয়ের মাসে এটা সবার জন্য একটি সুখবর। তিনি আরো বলেন, এই স্থানে তেলের মজুর জানার জন্য আমাদের আরো তিন থেকে চার মাস অপেক্ষা করতে হবে. আমি আশা করি যে এই স্তরে তেল উত্তোলন শুরু হলে প্রতিদিন 600 থেকে সাড়ে ৬৫০ ব্যারেল তেল উত্তোলন করা যাবে।সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান কূপটিতে এখন পর্যন্ত তিনটি স্তরের সন্ধান পাওয়া গেছে যার মধ্যে সবচেয়ে নিজের স্তরটি ২৫৪০ থেকে ২৫৫০ মিটার পর্যন্ত পরীক্ষা করে ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে যার লোইন প্রেসার তিন হাজার ২৫০ পি এস আই পরিমাণ ৪০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ঘনফুট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এরপর 2550 থেকে 2570 মিটার খননের পর আরো একটি গ্যাসের খনির সন্ধান পাওয়া যায় আমরা আশা করছি এই গ্যাসের প্রেশার খুব ভালো হবে। পরীক্ষা করলে দেখা যায় ২৫ থেকে ৩০ বিলিয়ন গনপুর গ্যাস পাওয়া যেতে পারে এই খনি থেকে।

সাংবাদিকদের তেল উত্তোলনের প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, তেলের খনিতে তেলের স্পিড প্রথম দিনে আমরা ৩৫ ব্যরের মতো পরিমাপ করতে পেরেছি। এর থেকে বোঝা যায় একযোগে এই তেল উত্তোলন করলে ৮ থেকে ১০ বছর এই খনি ব্যবহার করা যাবে। যার বাজার মূল্য হতে পারে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং যদি ২০ মিলিয়ন কুইন্টাল ঘনফুট হারে তেল উত্তোলন করা হলে ১৫ বছর এই খনি ব্যবহার করা যেতে পারে। আপাতত আমরা ল্যাব টেস্টে তেলের সিম্পল পাঠিয়েছি তারপরে আমরা জানতে পারবো এই খনিতে তেলের মজুর কতটুকু রয়েছে এর আগে সিলেটের হরিপুরে তেলের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল কিন্তু তখন তেলের সাথে গ্যাস ও থাকতো কিন্তু এবার আমরা গ্যাস ও তেল আলাদা আলাদা খনি পেয়েছি যার ফলে আমাদের খরচ কমবে।

অবশ্য এর আগেও বাংলাদেশে অনেক তেলের খনি পাওয়া গিয়েছিল কিন্তু তখন তেলের স্তর খুব হওয়ায় তেমন পরিমাণের তেল পাওয়া যেত না এরকম ভূগর্ভের অনেক জায়গায় তেল জমে থাকতে পারে ভবিষ্যতে হয়তো আরো অনেক তেলের খনি পাওয়া যাবে .সিলেটের গৌরীপুরে হরিপুরে তেলের খনির স্থায়িত্ব ছিল মাত্র 5 বছর এ কারণে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্তর কম হওয়ায় বাংলাদেশে তেল পাওয়া যায় না সহজে তেল পাওয়া যায় না কিন্তু এবার তারা আশা করছেন সিলেটের দশ নম্বর কূপের স্থায়িত্ব হবে ১০ থেকে ১৫ বছরের মতো যার বাজার মূল্য হবে প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা।

One thought on “সিলেটে তেলের খনির সন্ধান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *